প্রতিউত্তর / খণ্ডন

ধরুন আপনি একদিন কোন এক ব্যাক্তির মুখ থেকে শুনলেন যে রাসুল (সা.) নূরের তৈরি। অর্থাৎ রাসুল (সা.)-কে নূর দ্বারা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। এরপর আপনি আপনার বিবেক খাটালেন যে, হ্যা নূর যেহেতু আলো, আলো তো ভালো জিনিস। এটা হতেও পারে বা এটাই হবে। উনি তো আমাদের মত সাধারণ মানুষ নন। আমরা মানুষ মাটির তৈরি হতে পারি। কিন্তু উনি নূরের তৈরি হওয়াটাই বেশি সম্মানের।

অর্থাৎ এই আলাপটাকে আপনি আক্বল দিয়ে যুক্তি খাটিয়ে বিশ্বাস যোগ্য এবং এটা বলা বৈধ করে নিলেন। আপনার মতন এই একই কাজ করে আক্বীদাহে বিভ্রান্ত এনে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখে গিয়েছেন বহু মানুষ। অথচ আপনার উচিৎ ছিলো কথাটা কোরআন এবং হাদিসে আছে কিনা চেক করে নেওয়া। বা সালাফদের মাঝে কেও এই কথা বলে গেছেন কিনা সেটা বের করার চেষ্টা করা। কিন্তু আপনি এগুলোর কোনটা না করেই নিজের মত করে এক বুঝ তৈরি করে নিলেন।

এইবার কিছু মানুষ এখানে প্রশ্ন তুলবে,
১/ আমারা আমাদের বাপ দাদা থেকে এসব কথা শুনেছি
২/ আমরা কেন নিজে নিজে কোরআন হাদিস বুঝতে যাব?
৩/ রাসুল (সা.) কে সাধারন মাটির মানুষ বলে ওনাকে অসম্মানিত করতে চাইনা

আচ্ছা মানলাম আপনি কোরআন হাদিস বুঝেন না। তাহলে যে সমস্ত আলেম এই বানোয়াট কথাটা বলে বেড়ায় তাদের কথা শুনে শুনে যেভাবে এইটা বুঝলেন ঠিক তেমনি অন্যান্য আলেম, যারা কোরআন-হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে প্রমান করে যে এই কথাটা ভুল, তাদের কাছ থেকে কি সঠিক বুঝটা বুঝতে পারলেন না?

বাপ-দাদা কি ভুল পথে থাকতে পারেনা?
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন একমাত্র তাঁর ইবাদতের আদেশ দিতে, কিন্তু তোমরা তোমাদের বাপ-দাদাদের অনুসরণ করে ভুল পথে আছো।” সহিহ বুখারি (হাদিস: 3841)

এই দুনিয়ার সকল মানুষের কথা বর্জন করা যাবে, একমাত্র রাসুল (সা.) ব্যাতিত। আর আপনি রাসুল (সা.) এর কথা উপেক্ষা করে বাপ-দাদার কথা মেনে চলছেন এটা কি রাসুল (সা.) কে অসম্মানিত করা হলোনা?

আল্লাহ সুবহানাওয়াতালা বলেন,
“বলুন, আমি তো শুধু তোমাদের মতোই একজন মানুষ। আমার প্রতি ওহি নাযিল করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ (উপাস্য) একজনই।” সুরা আল-কাহফ (১৮:১১০)

মানুষের বিশ্বাস কিভাবে কাজ করে, এবং মানুষ ইসলামিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে কতটা গাফিলতি করে এটা উপরুক্ত সংলাপের একটা উদাহরণ মাত্র। একজন মুসলিম কোরআন এবং হাদিস কে উপেক্ষা করে কিভাবে ভাবতে পারে?

চলবে…