গত পর্বে জাবরিয়া এবং কাদারিয়া সম্পর্কে মৌলিক বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম। কাদারিয়্যাহগণ বিশ্বাস করে যে, ভাগ্য বলে কিছুই নেই, কর্মই সব। আর জাবারিয়্যাহগণ বিশ্বাস করে যে, কর্ম বলে কিছু নেই ভাগ্যই সব। এর চেয়ে সহজভাবে বুঝানোর ভাষা আমার জানা নেই এবং এটা বুঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এই দুইটা ভ্রান্ত আক্বীদাহ খন্ডন করাই এই পর্বের মূল উদ্দেশ্য।
প্রথমেই আসুন তাকদীরের ব্যাপারে কিছু মৌলিক বিষয় জানার চেষ্টা করি,
১/ আল্লাহ তা‘আলা সকল মাখলুকের তাকদীর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে লিখেছেন। __সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৬৪১
সুতরাং একমাত্র আল্লাহ সুবহানাওয়া তালা ভবিষ্যৎ জানেন এবং তিনিই সকল জ্ঞানের অধিকারী।
২/ বান্দা ইচ্ছা করলেই কোন কিছু ঘটবেনা, যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন। উপরন্তু আল্লাহ বলেই দিয়েছেন, ❝তোমরা কিছুই ইচ্ছা করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ, সৃষ্টিকুলের রব, তা ইচ্ছা করেন।❞ __সূরা আত-তাকওির ৮১:২৯
৩/ আল্লাহ সুবহানাওয়া তালার ২ ধরনের ইচ্ছা পোষন করেন –
ক) ইরাদায়ে কাওনিয়্যাহ (সৃষ্টিগত ইচ্ছা): এটি আল্লাহর সৃষ্টিগত বা বিশ্বব্যবস্থার ইচ্ছা, অর্থাৎ জগতে যা কিছু আল্লাহ ঘটাতে চান তা অবশ্যই ঘটে, হোক তা ভালো কিংবা মন্দ। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, আল্লাহ তা ভালোবাসেন বা এতে সন্তুষ্ট। যেমন ইবলিস(শয়তান) আল্লাহর অবাধ্য করবে এবং আল্লাহর অনেক বান্দাকে পথভ্রষ্ট করবে জেনেও সৃষ্টি করেছেন। কারণ এর পিছনে রয়েছে হিকমাহ (জ্ঞানের গভীরতা) এবং উদ্দেশ্য। তেমনি এই বিশ্বব্যবস্থার একটা সিস্টেম আছে। যেমন, আগুন কোন বস্তুকে পুড়িয়ে ফেলে আবার পানি আগুনকে নিভিয়ে ফেলে। অনেক সময় আল্লাহর এই সিস্টেম বা সুন্নাতুল্লাহ(আল্লাহ দুনিয়ায় এক নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা) -এর বিপরীত হয় সেটাকে বলে মোজেজা। যেমন ইব্রাহীম (আঃ) কে আগুন পুড়াতে পারেনি। তাকদীরের ব্যাপারে মোজেজা প্রমাণ করে যে আল্লাহ চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক। প্রাকৃতিক নিয়মও তাঁর ইচ্ছায় চলে, ব্যতিক্রমও তাঁর ইচ্ছায় হয়। কেও নিজ ইচ্ছায় মোজেজা বা কোন প্রকার কেরামত ঘটাতে পারেনা যদিনা আল্লাহ চান।
খ) ইরাদায়ে শার‘ইয়্যাহ (শরিয়তগত ইচ্ছা): এটি আল্লাহর শরীয়তের ইচ্ছা, অর্থাৎ আল্লাহ যা পছন্দ করেন, ভালোবাসেন, এবং বান্দাদের করার আদেশ দেন। যেমন, আল্লাহ সুবহানাওয়া তালা চান আমরা সালাত আদায় করি, সিয়াম পালন করি ইত্যাদি। শরিয়তের আদেশ সবাইকে করা হয়েছে, কিন্তু সবাই করবে এমন নয়। বরং অনেক সময় বান্দা এর বিরুদ্ধেও কাজ করতে পারে। যেমন অনেক নাস্তিক ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। শরিয়তের দিক থেকে বান্দা স্বাধীন। যদি বান্দা শরিয়ত পালন করে, তবে আল্লাহ খুশি হন। আর যদি কেও এগুলা করতে না চায় তবে আল্লাহ জোর করেন না কিন্তু ঐ ব্যাক্তির প্রতি অখুশি থাকেন।
এরপর আমরা উলুহিয়্যাত এবং রুবুবিয়্যাত সম্পর্কে জানবো কিন্তু আমি এখানে একাডেমিক্যালি না বলে কাদারিয়া এবং জাবরিয়াদের মূলনীতির সাথে তুলনা করে বুঝাবো যাতে পাঠকদের বুঝতে সুবিধা হয়। কাদারিয়াদের নীতি অনুযায়ী, এরা বলে – ভাগ্য বলতে কিছুই নেই, কর্মই সবঃ অর্থাৎ মানুষ তার নিজের কর্ম দিয়ে নিজের ভাগ্য তৈরি করে নেয়। আল্লাহ শুধু সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মানুষকে সৃষ্টি করে ছেড়ে দিয়েছেন, মানুষের কোন কর্মের উপর আল্লাহ হস্তক্ষেপ করে না। অথচ আল্লাহ সুবহানাওয়া তালা বলেন, “তোমরা কিছুই ইচ্ছা করতে পারবে না, যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন।” (সূরা আল-ইনসান: ৩০) অর্থাৎ, মানুষ চেষ্টা করে, কিন্তু ফলাফল আল্লাহর হাতে। যেমন, একজন চাষি জমিতে বীজ বপন করে, পানি দেয়, যত্ন করে। কিন্তু ফসল ওঠা বা না ওঠা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
তাদের এই নীতি কোরআনের আয়াত, তাকদির এবং সর্বোপরি আল্লাহর রুবুবিয়াতকে অস্বীকার করা হয়। রুবুবিয়াত মানে হচ্ছে আল্লাহ যা বান্দার প্রতি দান করেন বা যা ঘটান। যেমন, আল্লাহ ক্ষমা করেন, দয়া করেন, রিজিক দেন, জীবন-মৃত্যু নির্ধারণ করেন, ইত্যাদি। এসব আল্লাহর একক ইচ্ছায় হয়, কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয় না। তাকদির হচ্ছে আল্লাহর রুবুবিয়াতের অংশ। মানুষের কর্ম এবং ফলাফল সবকিছু তাকদিরের উপর নির্ভরশীল।
📝নোটঃ এখানে আরেকটা বিষয় উল্লেখ করতে হয় সেটা হচ্ছে, কাদারিয়াদের বিশ্বাস জৈন ধর্মের কার্মা তত্ত্বের সাথে মিলে যায়। আর জৈন ধর্মের জন্মই হয়েছে ভারতবর্ষে। গতপর্বে আমরা জেনেছিলাম, কাদারিয়া এর প্রতিষ্ঠাতা মা‘বাদ আল-জুহানী ছিলো সিনবুয়া নামের একজন পারস্য বা ভারতীয় দার্শনিক থেকে প্রভাবিত। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, মানুষ অনেক সময় অন্য ধর্ম বা দর্শনের ধারণায় প্রভাবিত হয়ে নিজের ধর্মে বা নতুন মতবাদ তৈরি করে যা আমরা পরবর্তী সিরিজগুলোতে আরো দেখবো ইনশাল্লাহ।
এবার আসি জাবরিয়্যাহ গোষ্ঠীর মূলনীতি নিয়ে। এরা বলে, কর্ম বলে কিছু নেই ভাগ্যই সব। অর্থাৎ, মানুষ পুতুলের ন্যায়, কোনো স্বাধীন ইচ্ছা, ক্ষমতা বা সামর্থ্য নেই। অথচ আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ মানুষকে ইচ্ছা ও স্বাধীনতা দিয়েছেন” (সূরা আল-কাহফ: ২৯)। এরপর এরা বলে যেহেতু মানুষ স্বাধীন নয় তাই পাপ বা মন্দ কাজের দায় মানুষকে দেওয়া যায় না। তাদের এই নীতি স্পষ্টত আল্লাহর উলুহিয়াতকে অস্বীকার করা হয়। উলুহিয়াত হচ্ছে রুবুবিয়াতের উল্টো। অর্থাৎ বান্দা যা আল্লাহর প্রতি করে। যেমন, বান্দা ইবাদত করে, দোয়া করে, তাওয়াক্কুল করে ইত্যাদি। এবং এখানেই বান্দার স্বাধীনতা রয়েছে। বান্দা যদি শিরক বা কুফর করে, তবে সে নিজের ইচ্ছাতেই করে, আল্লাহ তাকে জোর করে না। আবার বান্দা যদি শরিয়ত মেনে চলতে চায় তাহলে আল্লাহ সাহায্য করেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা যদি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে আসি। যদি সে আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে দুই হাত এগিয়ে আসি। যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।” — (সহিহ বুখারি: ৭৫৩৬, সহিহ মুসলিম: ২৬৭৫)
জাবরিয়ারা আরো বলে, আল্লাহ যা চেয়েছেন, সেটাই হবে। তাই কেউ শিরক করলেও তা আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে। এর মানে, ইবাদতের ক্ষেত্রে মানুষ দায়ী নয়। অথচ তাদের এই নীতি কোরআন এবং হাদিসের পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। বরং এই একই কথা মুশরিকরা বলত, ‘যদি আল্লাহ চাইতেন, তাহলে আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষরা শিরক করতাম না, এবং আমরা কোনো কিছু হারাম করতাম না।’ (সূরা আন’আম: ১৪৮)
আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত এ বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের সকল শিক্ষা সমানভাবে গ্রহণ করেছেন। আমরা বলি, ভাগ্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কর্ম। আল্লাহ যেহেতু দুটি বিষয়ই উল্লেখ করেছেন সেহেতু দুটি বিষয়ই সত্য। এদুটির সমন্বয়ে আশা ও ভয়ের মধ্যে ঈমান।
“কর্মই সব” এটা বলে কাদেরিয়াদের মত হওয়া যাবেনা। আবার “ভাগ্যই সব” এটা বলে জাবরিয়াদের মতও হওয়া যাবেনা।
তাকদীর আল্লাহ লিখে রেখেছেন। অর্থাৎ বান্দার প্রতিটা কাজ পূর্ব নির্ধারিত। আমি যে আক্বীদাহ সিরিজ লিখছি এটাও আমার তাকদীরে লিখা আছে। তবে আমার তাকদীরে আর কি কি লিখা আছে সেটা আমি জানিনা। আর সেটা অনুসন্ধান করাও আমার কাজ নয়। এই কারনে গনক, রাশিফল ইত্যাদির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ তালাশ করা হারাম। তাকদির ইলমে গায়েব। আমরা তাকদিরের প্রতি ঈমান আনবো। তাকদিরের উপর আক্বীদাহ সহিহ করে নিবো। তাকদিরের প্রতি সু-ধারনা রাখবো এবং শরিয়ত মেনে চলবো। আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করবো।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “দোয়া ছাড়া অন্য কিছু তাকদির পরিবর্তন করতে পারে না।” — (তিরমিজি: ২১৩৯, ইবনু মাজাহ: ৯০)”
__ইবনু উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ। আরকানুল ইসলাম, প্রশ্ন নং ৬২
মানুষের জীবনে পাপ করা অনিবার্য। আল্লাহ সুবহানাওয়া তালা বলেন, “যদি তোমরা পাপ না করতে, আল্লাহ তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে এমন এক জাতি সৃষ্টি করতেন যারা পাপ করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, আর আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন।” __বুখারী (৭৫০৭) ও মুসলিম (২৭৫৮)
সুতরাং বান্দা গুনাহ করবেই। এবং এই গুনাহের পরে শরিয়তের দিক থেকে আমরা স্বাধীন। তাই আমরা যেটা করবো, ১/ যদি নেকীর কাজ হয়, শুকরিয়া আদায় করবো। শুকরিয়াতে আল্লাহ আমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দিবেন। আল্লাহ বলেন: “তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের (নেয়ামত) বৃদ্ধি করবো। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি কঠোর।” — (সূরা ইবরাহীম: ৭)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: “আল্লাহ যে বান্দার প্রতি কোনো নেয়ামত দান করেন এবং সে আলহামদুলিল্লাহ বলে, তবে সে যা পেয়েছে তার চেয়েও উত্তম কিছু পায়।” — (ইবনু মাজাহ: ৩৮০৫, সহিহ আল-জামি: ২৪২৮)
২/ যদি গুনাহের কাজ হয়, তওবা করে নিবো। আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বলেন: “হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছো (গুনাহ করেছো), তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” — (সূরা আয-যুমার: ৫৩)
৩/ যদি কোন কাজ বিপদের কারণ হয়, আল্লাহর ফয়সালাতে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” — (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)
“নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদেরকে তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেওয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।” — (সূরা আয-যুমার: ১০)
তাকদীর সংক্রান্ত ২টি গুরুত্বপূর্ন হাদিসঃ
১/ “যে ঈমান আনে তাকদিরের উপর—সে বুঝতে পারে যে তার জীবনে যা কিছু ঘটে তা আল্লাহর ইচ্ছা অনুসারেই হয়।” (সহিহ মুসলিম: ২৬৫৬)
২/ আবূ ‘আবদুল্লাহ ইবনুল দায়লামী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,
আমি উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) -এর নিকট এসে তাকে বললাম, তাক্বদীর সম্পর্কে আমার মনে একটা দ্বিধার উদ্রেক হয়েছে। তাই আপনি আমাকে এমন কিছু বলুন যার বিনিময়ে আশা করি মহান আল্লাহ আমার মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করবেন। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ তাঁর আসমান ও পৃথিবীবাসী সকলকে শাস্তি দিতে পারেন। তারপরও তিনি তাদের প্রতি অন্যায়কারী সাব্যস্ত হবেন না। পক্ষান্তরে, তিনি যদি তাদের সকলকে দয়া করেন তাহলে তাঁর এ দয়া তাদের জন্য তাদের নেক আমল হতে উত্তম হবে। সুতরাং যদি তুমি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর পথে দান করো আর তাক্বদীরে বিশ্বাস না রাখো, তবে তা গ্রহণ করা হবে না যতোক্ষণ না তুমি পুনরায় তাক্বদীরে বিশ্বাস করবে এবং উপলব্ধি করবে যে, যা তোমার ঘটেছে তা ভুলেও তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না। পক্ষান্তরে, যা এগিয়ে গেছে তা কখনো ভুলেও তোমার বেলায় ঘটবার ছিল না। আর এ বিশ্বাস ছাড়া তুমি মারা গেলে জাহান্নামে যাবে। ইবনুদ দায়লামী বলেন, অতঃপর আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) -এর নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উদ্বৃতি দিয়ে একই কথা বলেন। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৬৯৯ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
📌 সংক্ষেপে:
তাকদীরের ২টা মূলনীতিঃ
✅ শরীয়তের দিক থেকে তুমি স্বাধীন — তুমি জান্নাতের পথও নিতে পারো, জাহান্নামের পথও। ✅ তাকদীরের দিক থেকে যা-ই হবে, তা আল্লাহর জ্ঞানে ছিল এবং অনুমোদিত হয়েছিল।
তাকদীর সংক্রান্ত পরিভাষাঃ
আক্বীদাহ ভালোভাবে বুঝার জন্য আল্লাহ সুবহানাওয়াতালার ইচ্ছা এবং কাজ সম্পর্কে ধারনা রাখা উচিৎ। ইচ্ছাগুলো ইরাদায়ে শারিয়্যাহ এবং ইরাদায়ে কাওনিয়্যাহ-তে বুঝানো হয়েছে। আর কাজগুলো উলুহিয়্যাত এবং রুবুবিয়্যাতে বুঝানো হয়েছে। তাওহীদের স্তরগুলোকে এভাবে আলাদা করে আলোচনা শুরু হয়েছিল ইমাম আহমদ ইবন হানবাল (মৃ. ৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ/২৪১ হিজরি)। এরপর তৃতীয় ও চতুর্থ হিজরী শতাব্দীতে বড় বড় আলেমরা যেমন ইবন জারীর আল-তাবারি (মৃ. ৯২৩ খ্রি./৩১০ হি.), আবু মানসুর আল-মাতুরিদি (মৃ. ৯৪৪ খ্রি./৩৩৩ হি.) এবং ইবন বাত্তাহ (মৃ. ৯৯৭ খ্রি./৩৮৭ হি.) এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পরে শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (মৃ. ১৩২৮ খ্রি./৭২৮ হি.) এই বিভাজনকে আরও স্পষ্ট ও সাজানোভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি তাওহীদকে মূলত দুই ভাগে দেখান— ১. তাওহীদ আল-মারিফাহ ওয়া আল-ইথবাত: এতে রুবুবিয়্যাত এবং আসমা ওয়া সিফাত অন্তর্ভুক্ত। ২. তাওহীদ আল-কাসদ ওয়া আল-তালাব: এতে উলুহিয়্যাত অন্তর্ভুক্ত।
তিনি এ ধারণা আহমদ ইবন হানবালের ব্যাখ্যা থেকে গ্রহণ করেছিলেন। এরপর আরো অনেক পরে, মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব (মৃ. ১৭৯২ খ্রি.) এবং ওয়াহহাবি আন্দোলন এটিকে তিন ভাগে— রুবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত ও আসমা ওয়া সিফাত — জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত করে তোলে।
📝 এই সিরিজে ব্যাসিক ফান্ডামেন্টাল দিয়ে জাবরিয়া এবং কাদারিয়ার ভুল গুলা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরে আধুনিক নাস্তিকেরা তাক্বদীর সংক্রান্ত কিছু হাদিস এবং আল্লাহর কর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এগুলা নিয়ে ডঃ জাকির নায়েক সহ অনেকেই কাজ করেছেন যা ইন্টারনেটে এভেইলেবল। পাঠকের প্রয়োজন হলে সার্চ দিয়ে জেনে নিতে পারেন।
🚩 কিংবা যদি আমার সময় সাকুল্যে হয়, এটা নিয়ে বিস্তারিত লেখা লিখতে পারি। বিভিন্ন পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে তাক্বদীর নিয়ে আলোচনা করলে বিষয়গুলো স্পষ্ট হতে থাকে। তবে এখানে যে মানহাযটা আমাদের মেনে চলতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে, সালাফরা যে পর্যন্ত গিয়ে চুপ হয়েছেন আমাদেরও সেই পর্যন্ত পরে চুপ থাকতে হবে। এবং এটা মেনে নিতে হবে যে, সৃষ্টি হিসেবে স্রষ্টার কাজ বুঝা অসম্ভব যদিনা আল্লাহ আমাদের সে সম্পর্কে জ্ঞান দান করেন।
Leave a Reply