🧭 মুয়াবিয়া (রাঃ) এর শাসনকাল, হিজরি ৪০ – ৬০ (খ্রিস্টাব্দ: ৬৬১ – ৬৮০ সাল)

হযরত আলী (রাঃ) শহীদ হওয়ার পর তাঁর ছেলে হযরত হাসান (রাঃ) খিলাফতের দায়িত্ব নেন। কিন্তু তখনও মুসলিমদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল, বিশেষ করে সিরিয়া (মুয়াবিয়া রাঃ-এর এলাকা) ও কুফার মধ্যে। হযরত হাসান (রাঃ) ছিলেন শান্তিপ্রিয়। তিনি চেয়েছিলেন মুসলিমদের রক্তপাত বন্ধ হোক। তাই তিনি মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর সাথে একটি শান্তিচুক্তি (صلح) করেন। এই চুক্তির ফলে মুসলিম জগতে রক্তপাত বন্ধ হয়, এবং ইতিহাসে এই বছরকে বলা হয় عام الجماعة (ঐক্যের বছর)।

হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন এবং হযরত উসমান (রাঃ)-এর আত্মীয়ও ছিলেন। তিনি শুরু থেকেই জোর দাবি তুলেছিলেন: “উসমান (রাঃ)-এর খুনীদের আগে শাস্তি দিতে হবে, তারপর খিলাফতের আলোচনা।”

হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) যখন হযরত হাসান (রাঃ)-এর সাথে চুক্তির মাধ্যমে পূর্ণ খিলাফত গ্রহণ করেন, তখন পরিস্থিতি শান্ত হয়েছিল। তখন তিনি কিছু বিদ্রোহী ও চিহ্নিত খুনীকে শাস্তি দেন, কিন্তু সব খুনীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে উনার সময় অনেকটা শান্তি ফিরে আসে এবং প্রশাসন স্থিতিশীল হয়।

মু‘আবিয়া (রা.) প্রায় ২০ বছর মুসলিম উম্মাহকে একত্রে নেতৃত্ব দেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর পরে খেলাফতের দায়িত্ব তাঁর ছেলে ইয়াযীদ গ্রহণ করবে। এর পিছনে মূলত তিনটি কারণ ছিল—

১/ সিরিয়ার জনগণের একনিষ্ঠ সমর্থনঃ সিরিয়ার জনগণ মু‘আবিয়া (রা.) ও তাঁর বংশকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করত। তাঁরা চাইত, ক্ষমতা উমাইয়া পরিবারেই থাকুক, যাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

২/ কুফা ও হিজাজে অস্থিরতাঃ কুফা, মক্কা-মদীনা, মিসর ইত্যাদি অঞ্চলে তখনো আলী (রা.)-এর সমর্থকরা শক্তিশালী ছিলেন। তাঁদের মনোভাব ছিল পরিবর্তনশীল ও দ্বিধাগ্রস্ত। মু‘আবিয়া (রা.) বুঝলেন, মৃত্যুর পর যদি নতুন খলীফা নির্বাচনের জন্য শূরা হয়, তবে প্রতিযোগিতা শুরু হবে এবং আবার রক্তপাত ঘটতে পারে।

৩/ মদীনার জনগণের ধর্মীয় ধারাঃ মদীনার মানুষ ধর্মীয়ভাবে প্রভাবশালী হলেও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী ছিল না। তাই তারা কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারবে না। মু‘আবিয়া (রা.) মনে করলেন, ইয়াযীদকে মনোনয়ন দিলে রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য বজায় থাকবে।

এছাড়া, মুয়াবিয়া রা. হয়তো জানতেন যে এয্যিদকে শাসক হিসেবে স্থাপন করলে সিরিয়ার সামরিক শক্তি ও রাজনীতি একযোগে স্থিতিশীল থাকতে পারে, যা তার শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করবে। এটা ছিল মুয়াবিয়া (রাঃ) এর একটি ‘ইজতিহাদি সিদ্ধান্ত’। আর ইজতিহাদ ভুল হলেও গুনাহের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা মুয়াবিয়া (রাঃ) এর প্রতি সু-ধারণা পোষন করবো। আমরা বলবো তাঁর উদ্দেশ্য সৎ ছিলো।

সাহাবিদের প্রতি সু-ধারনা পোষণ সালাফদের আক্বীদাহ ও মানহাজ। মুয়াবিয়া রাঃ এর প্রতি কেন সু-ধারনা পোষন করতে হবে তা সমনে বিস্তারিত আলোচনা করছি ইনশল্লাহ।

🧭 ইয়াযীদ এর শাসনকাল, হিজরি ৬০ – ৬৪ (খ্রিস্টাব্দ: ৬৮০ – ৬৯৪ সাল)

এজিদের শাসনকালে ৩টি বড় ধরনের ট্রাজেডি ঘটে। বছর ১: কারবালার ট্র্যাজেডি (হিজরী ৬১) বছর ২: মদিনার ট্র্যাজেডি – “হাররার যুদ্ধ” (হিজরী ৬৩) বছর ৩: কাবা শরীফে হামলা ও ধ্বংস (হিজরী ৬৪) এই ৩টি জঘন্য ঘটনা এজিদের শাসন আমলে ঘটেছে এবং এর জন্য এজিদ দায়ী। কিন্তু এজিদের জন্য মুয়াবিয়া (রাঃ)-কে তাকফীর করা যেমন যুক্তি সংগত নয় তেমনি এজিদকে সরাসরি কাফের বলাও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদাহ নয়। কারন কাওকে কাফের বলতে হলে আগে তাঁর কুফর সম্পর্কে নিশ্চিত জেনে নিতে হবে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ❝তোমাদের কেউ যদি তার (মুসলিম) ভাইকে বলে ‘হে কাফের’, তবে তাদের একজন অবশ্যই সে কুফরের গুনাহ বহন করবে।❞ অর্থাৎ, যদি সে ব্যক্তি আসলেই কাফের না হয়, তবে এই কথা বলার গুনাহ নিজেই বহন করবে। __সহিহ বুখারি: 6104 এবং সহিহ মুসলিম: 60

ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, “এজিদের কাজ ছিল গর্হিত, বিশেষ করে কারবালার ঘটনা। যদিও সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ নেই, তবে তার জমানায় এসব ঘটেছে এবং সে শাস্তি দেয়নি।” __আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৮ম খণ্ডের ২২৫ পৃষ্ঠায়

ইমাম যাহাবী (রহ.) বলেন, “আমরা তাকে অভিশাপ দিই না, তবে তার কর্মকাণ্ডকে ঘৃণা করি।” __লাআনাতু ইয়াযীদ

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেন, “এজিদের বিষয়ে কিছু বলো না, তার ব্যাপারে আল্লাহর কাছেই বিচার দেওয়া হোক।”

কারবালার ইতিহাস উল্লেখযোগ্য লেখা শুরু করেন আবু মিখনাফ (লোত ইবনে ইয়াহইয়া), কারবালার ঘটনার ৯০-৯৫ বছর পর। তবে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য সংকলিত এবং বিশ্লেষণমূলক ইতিহাস যেমন তাবারীর লেখা, তাও প্রায় ২৩০-২৫০ বছর পর আসে। এর মধ্যে আবার উমাইয়া ও আব্বাসীয়রা ইতিহাস বিকৃত করেছিল। সুতরাং কারবালার সঠিক ইতিহাস নিয়ে শিয়া এবং সুন্নিদের মাঝে রয়েছে মতভেদ।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে আমদের অনেকেরই ইসলামিক শিক্ষা ভুলের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। যেমন মীর মশাররফ হোসেনের “বিশাদসিন্দু” যা কারবালার ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রচিত। মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন শিয়া ভাবধারায় প্রভাবিত মুসলিম সাহিত্যিক। উপন্যাসে অনেক কল্পনাপ্রসূত সংলাপ, নাটকীয়তা, আবেগময় বর্ণনা আছে যা ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য সূত্রসমূহ (যেমন: বুখারি, মুসলিম, তারিখে তাবারী) থেকে আলাদা।

দেখুন, “শিয়া” শব্দটি এসেছে “শিয়াতু আলী” (يعني: আলীর দল বা অনুসারী) থেকে। যদিও শুরুর দিকে তারা ছিল রাজনৈতিক গ্রুপ, পরে তা হয়ে ওঠে একটি ভিন্ন ধর্মীয় চিন্তাধারা, যার অনেক বিশ্বাস আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

🚩 এখানে একটা বিষয় লক্ষ্যনীয়, অনেকসময় রাজনৈতিক মতাদর্শন ধর্মীয় বিশ্বাসে রুপ নিতে পারে। যেমন ২০১৭ সালে হাজী ইকবাল নামে এক আওয়ামীলিগ নেতা কর্মী প্রেসক্লাবের সামনে এসে ‘হায় মুজিব, হায় মুজিব’ বলে শোকের মাতম তোলে। ঠিক যেমনি শিয়ারা হায় আলী, হায় আলী বলে মাতম করে। হাজী ইকবালের এই আকস্মীক কান্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলেও কেও এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। যার কারনে হাজী ইকবাল যে একটা সিস্টেম চালু করতে চেয়েছিলো তা এখানেই থেমে যায়।

শিয়াদের কিছু মূল ভ্রান্ত আক্বীদাহ হচ্ছে, ১/ শিয়ারা মনে করে, ইমাম আলী (রাঃ) ও তাঁর বংশধরেরা নির্ধারিত ইমাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ স্পষ্টভাবে আলী (রা.)-কে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বলে, রাসুল (সাঃ) আলী (রাঃ)-কে উত্তরসূরি দিবেন আর সাহাবীরা মানবেন না এই চিন্তাটাও ঈমান বিরোধী।

২/ শিয়ারা বিশ্বাস করে যে আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ), উসমান (রাঃ) খলিফা হওয়ার যোগ্য ছিলেন না। তারা মনে করে আলী (রাঃ)-এর হক কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক খিলাফত নিয়েছিলেন (নাউযুবিল্লাহ)।

৩/ নিজের আসল বিশ্বাস গোপন রাখা এবং প্রয়োজনে মিথ্যা বলা তাদের মতে জায়েজ ও ইসলামের অংশ। এটি তাদের ধর্মীয় কৌশল বলে বিবেচিত।

৪/ সাহাবীদের (বিশেষ করে মুয়াবিয়া (রাঃ), আয়িশা (রাঃ) প্রমুখ) প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন, গালাগালি ও লানত পাঠানোকে শিয়ারা ইবাদতের অংশ মনে করে।

৫/ কারবালার ঘটনার শোক পালন করতে গিয়ে তারা শরীরকে আঘাত করে, ছুরি-কাঁচি দিয়ে রক্ত ঝরায়, মাতম করে এবং নানা নাটকীয় কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়—যা ইসলামে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

“যে আমার সাহাবীদেরকে গালি দেয়, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমগ্র মানুষের লানত।” __ইমাম তাবারানি, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, হাদিস সহীহ

“মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা আগেই ঈমান এনেছে এবং যারা তাদের অনুসরণ করে তাদের প্রতি আল্লাহ্ সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।” [সূরা তাওবা: ১০০]

শি’আ মতবাদপুষ্ট লোকেরা হজরত আলী(রা:) কে মর্যাদা প্রদানের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করে।

অথচ, সহিহ আকিদা হলো –

রাসুলুল্লাহ ﷺ এর পরেই মর্যাদার দিক দিয়ে এই পৃথিবীতে সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছেন ইসলামের ১ম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক(রা:)। এই মর্মে সহিহ বুখারিতে একটি অনুচ্ছেদও রয়েছে।

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে সাহাবীগণের পারস্পরিক মর্যাদা নির্ণয় করতাম। আমরা সর্বাপেক্ষা মর্যাদা দিতাম আবূ বকর (রাঃ)-কে তাঁরপর ‘উমার ইব্‌নু খাত্তাব (রাঃ)-কে, অতঃপর ‘উসমান ইব্‌নু আফ্‌ফান (রাঃ)-কে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৮৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯০)
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৫৫
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

মুয়াবিয়া (রাঃ) এর প্রতি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর আক্বীদাহঃ

১/ উনি সাহাবি ছিলেন। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আমার সাহাবীদের গালি দিও না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পরিমাণ স্বর্ণ দান করে, তবুও তাদের একজনের আমলের সমান হবে না।” সহীহ বুখারী, হাদীস: ৩৬৭৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আমার সাহাবীদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো! আমার পরে তাদেরকে কটূক্তির লক্ষ্য বানিও না। যে তাদের ভালোবাসে, সে আমার ভালোবাসার কারণে তাদের ভালোবাসে। আর যে তাদের ঘৃণা করে, সে আমাকে ঘৃণা করার কারণে তাদের ঘৃণা করে। যে তাদের কষ্ট দেয়, সে আমাকে কষ্ট দেয়। আর যে আমাকে কষ্ট দেয়, সে আল্লাহকে কষ্ট দেয়। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাকে শিগগিরই শাস্তি দেবেন।” জামে আত-তিরমিযী, হাদীস: ৩৮৬২

২/ উমর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ) তাঁকে গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন

৩/ সমুদ্রযুদ্ধের সূচনা করেন (মুসলিম নৌবাহিনী) – রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আমার উম্মতের মধ্যে যারা প্রথম সমুদ্রযুদ্ধে অংশ নেবে, তারা জান্নাতি।” সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৯১২ (কিতাবুল ইমারাহ)

৪/ এ ছাড়াও রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় মুয়াবিয়া (রাঃ) তাবুক যুদ্ধে অংশ নেন এবং তিনি ছিলেন একজন ওহি লেখক। রাসূল ﷺ তাঁর জন্য বিশেষ দোয়া করেছেন: “হে আল্লাহ! মুয়াবিয়াকে কিতাব (কুরআন) ও হিসাব শিক্ষা দাও এবং তাকে শাস্তি থেকে রক্ষা করো।” তিরমিজি, হাদীস: ৩৮৪২

৫/ মুয়াবিয়া (রাঃ) ছিলেন রাসূল ﷺ-এর শ্যালক। মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর বোন উম্মে হাবীবা রামলা বিনতে আবু সুফিয়ান (রাঃ) ছিলেন রাসূল ﷺ-এর স্ত্রী। এই সম্পর্কের কারণে মুয়াবিয়া (রাঃ) ছিলেন রাসূল ﷺ-এর শ্যালক এবং মুমিনদের মামা।

রাসুল সাঃ আরো দোয়া করেছেন, “হে আল্লাহ! মুয়াবিয়াকে হিদায়াত দাও এবং তার মাধ্যমে অন্যদের হিদায়াত দাও।” তিরমিজি, হাদীস: ৩৮৪২ অর্থাৎ রাসূল ﷺ মুয়াবিয়া (রাঃ)-কে ভালোবাসতেন এবং তাঁর জন্য কল্যাণ কামনা করতেন।

এই এতগুলা হাদিসকে সামনে রেখে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত মুয়াবিয়া (রাঃ) এর প্রতি সু-ধারনা পোষন করেন।

রাসুল সাঃ বলেন, “যখন আমার সাহাবীদের (সমালোচনার প্রসঙ্গে) আলোচনা ওঠে, তখন চুপ থাকো।” আল-মুজামুল কাবীর, হাদীস নং ৭৪৭৭

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত তো ব্যাক্তিগত ভাবে কাওকেই তাকফীর করেনা। সেখানে সাহাবীদের তাকফীর করা তো অসম্ভব।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আমার পরে খিলাফত থাকবে ৩০ বছর, তারপর তা কঠোর রাজতন্ত্রে পরিণত হবে।”
(সুনান আবু দাউদ, হাদীস: ৪৬৪৬; শাইখ আলবানী একে সহীহ বলেছেন)

এই ৩০ বছরের খিলাফতের মধ্যে ছিলেনঃ
১/ হযরত আবু বকর (রাঃ) – ২ বছর ৩ মাস
২/ হযরত উমর (রাঃ) – ১০ বছর ৬ মাস
৩/ হযরত উসমান (রাঃ) – ১২ বছর
৪/ হযরত আলী (রাঃ) – প্রায় ৪ বছর ৯ মাস
৫/ হযরত হাসান (রাঃ) – ৬ মাস (তিনি মুয়াবিয়া রাঃ-এর সাথে শান্তিচুক্তি করেন)
এইভাবে মোট ৩০ বছর পূর্ণ হয় — এটাকে ইসলামের খিলাফতে রাশিদাহ (রাশেদিন খিলাফত) বলা হয়। এরপর মুয়াবিয়া (রাঃ) এর সময় থেকে রাজতন্ত্রের ধারা শুরু হয় — যেটা ‘মুলক’ বা রাজতান্ত্রিক শাসন হিসেবে বর্ণিত হয়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, তাঁর পরে রাজতন্ত্র (ملك) আসবে। এবং প্রথম রাজতন্ত্র সবচেয়ে উত্তম হবে।
(মুসনাদ আহমদ – ৪/১২৬, হাদীস: ১৭১৪৫)

তাহলে হিসেবে প্রথম রাজতন্ত্র ছিলো এই মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *