মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামি (রাযি.) বলেন:
ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), আমাদের মাঝে কিছু দাস-দাসী আছে, যাদের আমরা মুক্ত করতে চাই। আমি কি তাদের পরীক্ষা করতে পারি? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, করো।’
তখন আমি এক দাসীকে ডেকে আনলাম। নবী (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,
– ‘আল্লাহ কোথায়?’
সে বলল, ‘আসমানে।'(সামা السَّمَاءُ বা উপরের দিকে)
এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,
– ‘আমি কে?’
সে বলল, ‘আপনি আল্লাহর রাসুল।’
তখন নবী (সা.) বললেন,
‘তাকে মুক্ত করে দাও। নিশ্চয় সে একজন মুমিন।’
— (সহিহ মুসলিম: হাদিস 537, সুনান আবু দাউদ: 930, মুসনাদ আহমাদ: 21516)

সাধারণত বিভিন্ন যুদ্ধ, বিজয়, কিংবা বাণিজ্যের মাধ্যমে আরবদের মাঝে দাস হিসেবে অনারবরা আসতো। তারা হয়তো ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে নতুন ছিল বা তাদের পূর্ব বিশ্বাস থেকে প্রভাবিত ছিল। ধারণা করা হয় এই দাসীও অনারব (আজমি) হওয়ায় নবী (সা.) তার আক্বীদা যাচাই করার জন্য প্রশ্ন করেন।

সুতরাং আপনি আমি যেহেতু বাংগালী তাই আমরাও অনারব। এবং বাংলাদেশের ইসলামের সূচনা এবং বর্তমান ইসলামিক কালচার যে খুব একটা সুবিধার না সেটা আক্বীদাহ সিরিজ ১২ তে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। নিজেকে যাচাই করার জন্যে হলেও এই প্রশ্নের মাধ্যমে আমাদের পরিক্ষা করে নেওয়া উচিৎ এবং এটা আক্বীদাহের অনেক বড় একটা প্রশ্ন যার সঠিক উত্তর জানা আবশ্যক। ড. ইমাম হোসাইন আক্বীদাহের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, আরবে যে কাওকে জিজ্ঞেস করলে বলবে আল্লাহ আকাশে। অথচ বাংলাদেশে জিজ্ঞেস করলে অনেকেই বলবে আল্লাহ সব যায়গায়। এর কারন হচ্ছে বাংলাদেশে আশআরি এবং মাতুরিদির প্রভাব।

ইসলামি আক্বীদাহ সিরিজ ৮ এ আশআরি এবং মাতুরিদির ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। উভয়ই মুতাযিলার যুক্তিবাদী দর্শন ও বিতর্কমূলক চিন্তাধারার বিরোধিতা করলেও কিছু ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতিগত কৌশল গ্রহণ করেছে। আশআরি আক্বীদার মূল বিষয় হচ্ছে আল্লাহর কিছু কিছু সিফাতকে নিজেদের আক্বল দিয়ে ব্যাখ্যা করা। আর মাতুরিদির মূল বিষয় হচ্ছে আক্বল দিয়ে কোরআন হাদিসের যেসব বিষয় যুক্তিতে মিলবে তা ঠিক আছে কিন্তু যা যুক্তিতে মিলবেনা সেটার আলাদা একটা ব্যাখ্যা বের করা। এবং এরা এভাবেই আলাদা একটা যুক্তিবিদ্যা বের করেছে নাম দিয়েছে মানতেক। মানতেক (المنطق) শব্দটি আরবি ভাষায় এসেছে, যার অর্থ “যুক্তিবিদ্যা” বা “লজিক”।

উদাহরনস্বরুপ,
“আল্লাহ সুবহানাওয়াতালা আরশে ইস্তিওয়া(উপরে উঠা) করেছেন” এই কথার উপর এরা যুক্তি আরোপ করে প্রশ্ন উত্থান করে,
– যদি আল্লাহ আরশ সৃষ্টি করে তার পর ইস্তিওয়া করেন তাহলে আরশ সৃষ্টির আগে আল্লাহ কোথায় ছিলেন?
– যদি ইস্তিওয়া করেন তাহলে আল্লাহ স্থান পরিবর্তন করেন, সৃষ্টিকর্তা কি স্থানের মুখাপেক্ষি?
– যদি ইস্তিওয়া করেন তাহলে আল্লাহর আকার সাব্যস্ত হয়, আল্লাহর কি আকার আছে?
– আকার সাব্যস্ত হলে দেহ বিশিষ্ট বুঝায়, আল্লাহর কি দেহ আছে?
– দেহ সাব্যস্ত হলে মুজাসসিমা(ইসলামি আক্বীদাহ সিরিজ ৭ এ বিস্তারিত বলা আছে..) আক্বীদা বুঝাবে। ইত্যাদি।
এইভাবে এরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এবং সালাফিদেরকে মুজাসসিমা আক্বীদার অনুসারী বলে অপপ্রচার করে। অথচ এই “যদি”, “কেন”, “কিভাবে” ইত্যাদি সকল প্রকার যুক্তি-তর্ক হতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত মুক্ত – পবিত্র। যুক্তি তর্ক করে এই ইস্তিওয়া কে ভিন্ন অর্থ প্রদান করলে এই মর্মে কোরআনের সকল আয়াতসমূহ যেমন, সুরা আ’রাফ (৭:৫৪), সুরা ইউনুস (১০:৩), সুরা ত্বহা (২০:৫), সুরা ফুরকান (২৫:৫৯) ইত্যাদি অস্বীকার করা হয়।

তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদাহ হচ্ছে,
“আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।”
__সূরা আল-বাকারা (২:২৮৫)

কোন যুক্তি তর্ক কিংবা প্রশ্ন উত্থান করবোনা। প্রশ্ন তোলা ইহুদিদের বৈশিষ্ট্য। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“ইহুদিরা অহংকার ও অযথা প্রশ্ন করে ধ্বংস হয়েছে। অতএব, তোমরা যেটুকু আদেশ পেয়েছ, তা পালন করো।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২৮৮)

এবং একইসাথে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদাহ হচ্ছে,
“তাঁর মতো কিছুই নেই। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”
__সূরা আশ-শূরা (৪২:১১)

অর্থাৎ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইস্তিওয়া(উপরে উঠা) বিশ্বাস করেন এবং একই সাথে বিশ্বাস করেন আল্লাহ সুবহানাওয়াতালা কারো মত নন। তাই তিনি আরশ সৃষ্টির আগে কোথায় ছিলেন আমরা জানিনা এই প্রশ্নও করবোনা।
– যদি ইস্তিওয়া করেন তাহলে কি আল্লাহ স্থান পরিবর্তন করেন? এর উত্তর আমরা জানিনা আর এই প্রশ্নও করিনা।
– আল্লাহর কি আকার আছে? আমরা জানিনা এই প্রশ্নও করিনা।
– আল্লাহর কি দেহ আছে? আমরা জানিনা এই প্রশ্নও করিনা।

ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
“ইস্তিওয়া প্রমাণিত, কিন্তু এর প্রকৃতি অজ্ঞাত; এই ব্যাপারে বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব, আর এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত।”

তবে এখানে ইস্তিওয়া অর্থ সমাসীন বা আসীন বা আসন করেছেন বা বসে আছেন ইত্যাদি অর্থ করা যাবেনা। অথবা অথিষ্ঠিত, প্রতিষ্ঠিত ইত্যাদি অর্থও নেওয়া যাবেনা। কারন এগুলো ইস্তিওয়া-এর অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করে। আমরা অতিরিক্ত অর্থ গ্রহন করবোনা। যে কথাটা যেভাবে বলা আছে সেই কথাটা ঠিক সেইভাবে গ্রহন করতে হবে।

.

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন :-
“তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, আমি তোমাদের সাথে আছি। তিনি যা কিছু তোমরা করো, তা দেখেন।”
(সূরা হাদীদ: ৪)

স্কলারগণ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন যে, “আল্লাহ তোমাদের সাথে আছেন” বলতে বোঝানো হয়েছে এর পরের আয়াত “তিনি যা কিছু তোমরা করো, তা দেখেন” অর্থাৎ
আল্লাহর জ্ঞান, দৃষ্টি এবং শক্তি তোমাদের ওপর সর্বদা রয়েছে। তিনি সবকিছু জানেন, সবকিছু দেখেন, এবং সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশালী।

এই আয়াতের মাধ্যমে আবার অনেকে এর ব্যাখ্যা করতে চান যে, আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের একটা ভিডিওতে শুনেছিলাম,
‘হরির উপরে হরি, হরিতে শোভা পায় হরিকে দেখিয়া হরি, হরিতে লুকায়’ তথা সর্বজীবে ঈশ্বর এই বিশ্বাসের আরেক নামই আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান।

তিনি তাঁর ‘ইসলামী আকীদা’ বইতে,
৬.৫.৪.২.২ আল্লাহর নাম ও বিশেষণ বিষয়ে মূলনীতি – তে লিখেন,
এই বিষয়ে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের মূলনীতি এই যে, কুরআন ও সহীহ হাদিসে আল্লাহর নাম ও সিফাতের বিষয়ে যা কিছু বলা হয়েছে সরল ও স্বাভাবিক অর্থে বিশ্বাস করা, আল্লাহর কোন নাম, কর্ম বা বিশেষণকে সৃষ্টির নাম, কর্ম বা বিশেষণের সাথে তুলনা করা পরিহার করা এবং সাথেসাথে আল্লাহর নাম, কর্ম বা বিশেষণের স্বাভাবিক অর্থের বাইরে রুপক অর্থে ব্যাখ্যা করা বর্জন করা। যেমন কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ কোন সৃষ্টির সাথে তুলনীয় নয়। আবার পাশাপাশি মহান আল্লাহর শ্রবণ, দর্শন, কথোপকথন, হস্ত, মুখমণ্ডল, আরশের উপর সমাসীন হওয়া, ক্রোধান্বিত হওয়া, সন্তুষ্ট হওয়া ইত্যাদি বিশেষণ ও কর্মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মুজাসসিমা বা মুশাব্বিহা ফিরকা আল্লাহর এ সকল বিশেষণ সৃষ্টির বিশেষণের মত বলে কল্পনা করেছে।

পক্ষান্তরে মু’তাযিলী, জাহমী, কাদারী ও অন্যান্য বিভ্রান্ত ফিরকা আল্লাহর সৃষ্টির সাথে তুলনীয় নন যুক্তিতে মহান আল্লাহর অন্যান্য সকল বিশেষণ ও কর্ম অস্বীকার করেছে। তারা বলে মহান আল্লাহকে শ্রবণ, দর্শন, হস্ত, মুখমণ্ডল, আরশের উপর সমাসীন হওয়া, ক্রোধান্বিত হওয়া, কথা বলা ইত্যাদি বিশেষণ বা কর্মে বিশেষিত করার অর্থই হলো তাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা। …কুরআন ও হাদীসে ব্যাবহৃত এ সকল বিশেষণকে রূপক অর্থে ব্যাখ্যা করতে হবে। যেমন তাঁর হস্ত অর্থ তাঁর ক্ষমতা বা করুণা, আরশের উপর সমাসীন হওয়ার অর্থ আধিপত্য লাভ করা। ক্রোধান্বিত হওয়ার অর্থ শাস্তি প্রদানের ইচ্ছা করা, ইত্যাদি।

আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা’আত এ বিষয়ে ওহীর নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে। তাঁরা সকল সিফাত বা বিশেষণ তার প্রকৃত অর্থে বিশ্বাস করেন এবং বিশেষনের ধরন ও প্রকৃতির বিষয় মহান আল্লাহর উপর ছেড়ে দেন। সাথে সাথে তাঁর দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, তাঁর এ সকল সিফাত বা বিশেষণ কোনভাবেই সৃষ্টির বিশেষণের মত নয়।

ইমাম আবু হানিফা বলেন, “যে ব্যক্তি বলে যে, আমি জানি না আল্লাহ আকাশে আছেন না জমিনে, সে কাফের। কারণ, আল্লাহ বলেন, ‘তিনি আরশে আছেন।’ আর আল্লাহর আরশ আকাশের উপরে।” (সূত্র: আল-ফিকহ আল-আকবার)

তিনি আরো বলেন, “আল্লাহ আরশের উপরে আছেন, কিন্তু তাঁর আরশে ইস্তিওয়া (উপর অবস্থান করা) এমনভাবে নয় যা সৃষ্টির অবস্থার সাথে তুলনীয়।” অর্থাৎ, আল্লাহর ইস্তিওয়া প্রমাণিত, কিন্তু এটি কিভাবে ঘটেছে তা বোঝার বা কল্পনা বা anthropomorphism করার চেষ্টা করা উচিত নয়। কুরআনে আসা আল্লাহর সিফাতগুলোতে বিশ্বাস স্থাপনের কথা বলেছেন, যেমনটি এসেছে, কিন্তু এগুলোর প্রকৃতি বা “কাইফিয়াত” সম্পর্কে অনুসন্ধান করা বিদআত।

.

আল্লাহ সুবহানাওয়াতালা আরশে এই আক্বীদাহ পোষন করে এমন বাংলাদেশের কিছু ইসলামি ব্যাক্তিত্বের নামঃ
– খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
– আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
– শায়খ আহমাদুল্লাহ
– ডঃ মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী
– শায়খ মতিউর রহমান মাদানী
– শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক
– দেলোয়ার হোসেন সাইদী
– ড. ইমাম হোসেন
– মিজানুর রহমান আজহারী

.

এই ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যখ্যা নিয়ে অসাধারন একটা বই হচ্ছে,
“রহমান আরশের উপর উঠেছেন”
__ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

.

আল্লাহ সুবহানাওয়াতালা উপরে আছেন এই ব্যাপারে যে ৩টি দলিল অনেকে পেশ করে থাকেন,

১/ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আমাদের প্রভু (আল্লাহ) প্রতিটি রাতের শেষ তৃতীয় ভাগে নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন..(সহীহ বুখারি: ১১৪৫, সহীহ মুসলিম: ৭৫৮)

২/ মুনাজাত বা দোয়ার সময় হাত উপরের দিকে তোলা..

৩/ নবী মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর নির্দেশে এক রাতে মক্কা থেকে প্রথমে বাইতুল মাকদিস (জেরুজালেম) পৌঁছান এবং এরপর তিনি আসমান বা আকাশে আরো উপরে উঠে যান। যে ঘটনাকে মেরাজ বলা হয়। এবং সেখানে ৫০ ওয়াক্ত সালাত পাবার পরে মূসা (আ:) যে বললেন, “আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের (বোঝা) হালকা করার জন্য আরয করুন” _সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৮৮৭

তবে অবশ্যই এগুলো এমনভাবে বোঝা উচিত নয় যেন আল্লাহ স্থান পরিবর্তন করেন বা আল্লাহ কোন স্থানে অবস্থান করেন। কারণ আল্লাহ স্থান ও সময়ের ঊর্ধ্বে। এটি আল্লাহর সিফাত যা আমাদের বোধগম্যের বাইরে। তাই আমরা আল্লাহর কোন সিফাতকে আমাদের সাথে বা আমাদের কোন কর্মের সাথে কল্পনাও করবোনা।

কিন্তু এর বিপরীতে ইলমুল কালাম চর্চাকারীরা কোরআন থেকে ২টি ঘটনার যুক্তি পেশ করে,

১/ মূসা (আ:) এর সাথে আল্লাহ সুবহানাওয়াতালার কথোপকথন যা সূরা আল-আরাফ-এ উল্লেখ আছে। তাহলে কি আল্লাহ তূর পাহাড়ে আছেন?

২/ ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-বলছেন, “নিশ্চয়ই আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি। তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করবেন।” সূরা আস-সাফফাত (৩৭:৯৯), তাহলে কি আল্লাহ ফিলিস্তিনের দিকে আছেন?

এখানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদাহ ঐ আগের মতই, “তাহলে” যুক্তি দিয়ে আমরা প্রশ্ন উত্থান করে কোরআনের আয়াত অস্বীকার করতে যাবোনা। যেই মূসা (আ:) তূর পাহাড়ে গিয়েছেন সেই মূসা (আ:)-ই মেরাজে রাসুল (সা:)-কে বলেছেন “আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান..। যেই আল্লাহ মূসা (আ:) এবং ইব্রাহিম (আ:) এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন সেই আল্লাহই আমাদের জানিয়েছেন, “আল্লাহ সুবহানাওয়াতালা আরশে ইস্তিওয়া(উপরে উঠা) করেছেন” এবং “তাঁর মতো কিছুই নেই। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা”। আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। এই ব্যাপারে বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব, আর এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত।

.

“আর আকাশে রয়েছে তোমাদের রিজিক এবং যা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।” (সুরা আদ-ধারিয়াত, আয়াত ২২)

“বলুন, আকাশ ও পৃথিবী থেকে কে তোমাদেরকে রিজিক দান করে? বলুন, আল্লাহ।” (সুরা সাবা, আয়াত ২৪)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *