প্রাথমিক ইসলামি যুগে সাহাবারা সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছ থেকে ইসলাম শিখতেন এবং তাঁর জীবন্ত নির্দেশনা মেনে চলতেন। রাসূল (ﷺ)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবারা ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েন। সাহাবারা যেসব স্থানে গিয়েছেন, সেখানকার মানুষ ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ইসলামি বিধান ব্যাখ্যা করতেন। তারা কুরআন ও হাদিসের আলোকে নতুন সমস্যার সমাধান খুঁজতেন এবং ফতোয়া দিতেন। এরপর তাবেঈনরা(যারা সাহাবাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন) তাদের শিক্ষা সাহাবাদের মাধ্যমে পেয়েছিলেন।

সাহাবারা কুরআন ও রাসূলের (ﷺ) হাদিসের ভিত্তিতে নতুন সমস্যার সমাধান করতেন এবং ফতোয়া দিতেন। এটি ছিল ফিকহের প্রাথমিক স্তর। যেমন, ইরাকে সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ছিলেন ফিকহ ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে অগ্রগামী। মদিনায় সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) এবং আয়েশা (রা.) ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফতোয়া প্রদান করতেন। শামে সাহাবি মুআধ ইবনে জাবাল (রা.) ফিকহি বিষয়ে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামি ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের বিভিন্ন মাজহাব গড়ে ওঠে। এর মধ্যে চারটি প্রধান মাজহাব(হানাফি, শাফিয়ি, মালিকি, এবং হাম্বলি) প্রতিষ্ঠিত হয়। মাজহাবের নামগুলো সাধারণত মুজতাহিদগনদের নামেই প্রশিদ্ধ লাভ করে।

মুজতাহিদ (مجتهد) শব্দের অর্থ হলো “যিনি ইজতিহাদ করেন”। ইজতিহাদ বলতে বোঝানো হয় কুরআন, হাদিস, ইজমা, এবং কিয়াস থেকে নতুন সমস্যার সমাধান বের করার প্রক্রিয়া। মুজতাহিদ ইমাম হলেন সেই বিশেষজ্ঞ আলিম, যিনি শরীয়তের মূল উৎসগুলো(কুরআন এবং হাদিস) থেকে নতুন সমস্যার(যে সকল সমস্যার সরাসরি সমাধান কোরআন হাদিসে নাই) সমাধান বের করতে সক্ষম হন।

এই ৪টা মাজহাব ছাড়াও আরও অনেক মাজহাব ছিল, যেগুলা এখন প্রচলিত নয় বা অনুসারীদের সংখ্যা খুবই কম। শুধুমাত্র এই ৪টি মাজহাব প্রচলিতর হওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে প্রচার-প্রসার এবং চর্চা। তাদের ছাত্ররা তাদের ফিকহ সংকলন করে বই আকারে প্রচার করতেন যেখানে অন্য মাজহাবগুলোর আলেমরা এমনভাবে তাদের মতামত সংকলন করতে পারেনি।

এ ছাড়াও ইসলামী শাসকদের সময়ে সরকারিভাবে সমর্থন, যেমন আব্বাসীয় খেলাফতের সময়ে হানাফি মাজহাবকে রাষ্ট্রীয় আইন হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ও কোর্টগুলোতে চার মাজহাবের ফতোয়াগুলোই শিক্ষা দেওয়া হতো। অন্য মাজহাবগুলোর প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন ছিল না। আদালতে বিচার কাজ পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট মাজহাবকে গ্রহণ করা হতো। এতে অন্যান্য মাজহাবগুলো প্রভাব হারায়।

ইমাম আবু হানিফা(৮০ থেকে ১৫০ হিজরি) এই চার মুজতাহিদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। যদিও ইমাম মালিক(৯৩ থেকে ১৭৯ হিজরি) একই সময়ে জীবনযাপন করেছিলেন। কিন্তু ফিকহি পদ্ধতির প্রতিষ্ঠা ও প্রসারের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা মালিকি মাজহাবের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।

ইমাম আবু হানিফা তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় কুফায় ফিকহি কাজ এবং ইজতিহাদের মাধ্যমে ফিকহের একটি সুসংগঠিত পদ্ধতি গড়ে তোলায় ব্যয় করেন। তাঁর শিষ্যদের মাধ্যমে হানাফি মাজহাব দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, ইমাম মালিক ইমাম আবু হানিফার কিছুটা পরে কাজ শুরু করেন এবং তিনি মূলত মদিনার আমল (মদিনার সাহাবা ও তাবেঈনদের প্রচলিত আমল) এর উপর ভিত্তি করে ফিকহের একটি পদ্ধতি তৈরি করেন। এবং তাঁর কাজের বিস্তার কিছুটা পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে হয়েছে।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তাবেঈন (সাহাবিদের পরবর্তী যুগ) এর অন্তর্ভুক্ত। যদিও কিছু ইতিহাসবিদ দাবি করেছেন যে, তিনি কুফার শহরে বাস করা কিছু সাহাবির (যেমন আবু হুরায়রা (র.)) সহিত পরোক্ষভাবে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাদের থেকে কিছু হাদিস শিখেছিলেন। তবে, সরাসরি সাক্ষাৎ বা আলাপ-আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।

হানাফি মাজহাবের ব্যাপক বিস্তারের অন্যতম কারণ হলো আব্বাসীয় এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থা হিসেবে হানাফি ফিকহকে গ্রহণ করা। ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্য হানাফি ফিকহ অনুসরণ করত। এ কারণেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে হানাফি মাজহাব জনপ্রিয়।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে আকীদাহ বা বিশ্বাসের বিষয়ে যখন বিতর্ক শুরু হয়ে যায় এবং বিভিন্ন গোষ্ঠী যেমন: মুতাযিলা, জাহমিয়া, কাদারিয়া ও জবরিয়া বিশ্বাসের নানা বিকৃত ধারণা ছড়িয়ে যায় তখন মুসলিমদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। তখন ইমাম আবু হানিফা (রহ.) আকীদাহর মূল বিষয়গুলো সহজ ভাষায় সংক্ষেপে লিখে ফেলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষ এবং আলেমদের সঠিক আকীদার ভিত্তি প্রদান করা। এই গ্রন্থটির নাম আল-ফিকহুল আকবার। ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এই বইটির বাংলায় ব্যাখ্যা করে দিয়ে গেছেন। এটি শুধুমাত্র একটি আকীদাহর বই নয়, বরং সঠিক ঈমান ও বিশ্বাস রক্ষার একটি দলিল।

ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৯৩ হিজরি – ১৭৯ হিজরি) :-
ইমাম মালিক মদিনাতে বসবাস করতেন এবং সেই সময় মদিনা ছিল ইসলামের জ্ঞানচর্চার মূল কেন্দ্র। আন্দালুস ও উত্তর আফ্রিকাতে মালিকি মাজহাব বিস্তৃত হয় উমাইয়া খলিফাদের মাধ্যমে। পরবর্তীতে মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মালি এবং সেনেগালে মালিকি মাজহাব প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইমাম আশ-শাফি’ই (১৫০ হিজরি – ২০৪ হিজরি) :-
ইমাম আশ-শাফিয়ি ইরাক এবং হিজাজ অঞ্চলে শিক্ষাগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মিশরে গিয়ে নতুনভাবে নিজের মতবাদ গঠন করেন। মিশর ও আশেপাশের দেশগুলোতে শাফিয়ি মাজহাব ছড়িয়ে পড়ে, কারণ ইমাম শাফিয়ি নিজেই সেখানে বসবাস করতেন এবং প্রচার চালাতেন।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল (১৬৪ হিজরি – ২৪১ হিজরি) :-
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ছিলেন হাম্বলি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন ইমাম শাফিয়ি (রহ.)-এর ছাত্র। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন। সৌদি আরব এবং কিছু আরব উপদ্বীপে হাম্বলি মাজহাব ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়, বিশেষত ওহাবি আন্দোলনের মাধ্যমে। সৌদি আরবের সরকারিভাবে হাম্বলি মাজহাবকে গ্রহণ করার কারণেও এই মাজহাব প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে।

যখন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল তাদের ফিকহি মতামত উপস্থাপন করতেন, তখন মানুষ তাদের থেকে দলিলসহ ফতোয়া গ্রহণ করত। সেই সময়ে মানুষ এককভাবে একটি মাযহাব অনুসরণ করত না। বরং যে মুজতাহিদের দলিল শক্তিশালী হতো, তারা সেই মতকে গ্রহণ করত। এই পদ্ধতিকে বলা হয় এত্তেবা বা এত্তেবায়ে সুন্নাহ।

এত্তেবা (اتِّبَاع) বা এত্তেবায়ে সুন্নাহ (اتباع السنة) শব্দের অর্থ হলো অনুসরণ। ইসলামী পরিভাষায় এটি সেই পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করে, যেখানে কোনো ব্যক্তি কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবাদের আমল, এবং মুজতাহিদের দলিলের উপর ভিত্তি করে ফিকহি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মূল লক্ষ্য হলো সরাসরি কুরআন ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা, দলিলের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং অন্ধ অনুসরণের পরিবর্তে গবেষণা ও চিন্তার মাধ্যমে ফিকহি সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া।

সেই সময়ে ইমাম মালিক (রহ.)-এর মুআত্তা এবং ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ইজতিহাদগুলোকে অনেক জায়গায় মানা হতো, তবে কেউ বলতো না যে, “আমাকে শুধু হানাফি হতে হবে বা মালিকি হতে হবে।”

কিন্তু খলিফা আল-মুতাসিম বিল্লাহ(আব্বাসীয় খলিফা, 833-842 CE) এবং তার পরবর্তী খলিফাগণ বিচারব্যবস্থায় নির্দিষ্ট মাজহাব অনুসরণের নিয়ম কার্যকর করেন। উলামাদের ফতোয়া ও বিচার ব্যবস্থায় খিলাফতের অধীনস্থ কাদিরা (বিচারক) একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের ফিকহ অনুযায়ী বিচার করতেন। এতে আইনি ফয়সালাগুলোতে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত থাকে। এরপর সাধারণ মানুষের ধারণা তৈরি হয় যে, একটি নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণ করাই ইসলামিক অনুশীলনের অংশ। ফলে তাকলিদ ধারণার প্রসার শুরু হয়।

তাকলিদকারী হচ্ছে সেই ব্যক্তি যিনি কোনো মুজতাহিদ বা ইমামের দেয়া সিদ্ধান্ত বা ফতোয়ার অনুসরণ করেন, এবং নিজে কোনো ইজতিহাদ করেন না। অর্থা কোন মুজতাহিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দলিল যাচাই না করেই। এজন্যেই সাধারণত তাকলিদকারীরা একটি নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণ করেন। তাকলিদ সাধারণত ইসলামি জ্ঞানে অগভীর সাধারণ মানুষদের জন্য প্রযোজ্য, যারা দলিল যাচাই করার মতো যোগ্যতা রাখেন না। তাকলিদ ধারণার প্রসার শুরু হবার পর, ইমামদের মধ্যে মুজতাহিদ ও তাকলিদকারী-এর পার্থক্য করা হয়।

এরপর একটা সময়ে মুজতাহিদদের সংখ্যা কমে গেলে জনসাধারণকে কোনো একটি মাযহাব অনুসরণ করতে উৎসাহিত করা হয়। সাধারণ মানুষ আলেমদের মতো কুরআন-হাদিস থেকে সরাসরি দলিল বুঝতে সক্ষম নয়, তাই তারা আলেমদের সিদ্ধান্ত মানতে শুরু করে।

নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণে ভালো কিছু প্রভাব দেখা দেয়, যেমন ইলমি ঐক্য, সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে সুবিধা(কনফিউশন ছাড়া) ইত্যাদি। কিন্তু আপত্তি ঘটে যখন ফিকহি অন্ধত্ব শুরু হয়। কিছু মানুষ অন্ধ অনুসরণ(তাকলিদ) শুরু করে এবং কুরআন-হাদিস বোঝার চেষ্টা বন্ধ করে দেয়। কেউ কেউ বলতে শুরু করে যে, “আমাকে শুধু হানাফি হওয়া লাগবে, অন্য মাযহাব মানা যাবে না।” অথচ, ইমাম আবু হানিফা (রহ.) নিজেই বলেছেন, যদি তার কথার বিরুদ্ধে কোনো সহীহ হাদিস পাওয়া যায়, তাহলে সেই হাদিস গ্রহণ করতে হবে এবং তার মতামত ছেড়ে দিতে হবে। এই কথা ৪ মাজহাবের সকল ইমামই বলে গিয়েছেন।

“যদি কোনো সহীহ হাদিস পাওয়া যায়, তবে সেটাই আমার মাযহাব।”
__তাহকীক আল-কালাম ফি মাসাইল আল-ইমাম আবু হানিফা (তাহকীক আল-কিতাব)

ইমাম ইবনু আবদিল বার (রহ.) তাঁর গ্রন্থ জামি‘ু বায়ানিল ইলম ওয়াফদিলিহি (২/৯১) এ ইমাম মালিকের এই বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন:
“প্রত্যেকের কথা গ্রহণ করা বা প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে, তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা ছাড়া।”

আল-ইমাম শাফিঈ-এর ‘আল-উম’ গ্রন্থ-এ তিনি নিজে উল্লেখ করেছেন:
“যদি তোমরা আমার কথার বিপরীতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহীহ হাদিস পাও, তাহলে আমার কথা দেওয়ালে ছুঁড়ে ফেলো।”

ইবনু আবদিল বার (রহ.) তাঁর গ্রন্থ জামি‘ু বায়ানিল ইলম (২/৯১) এ ইমাম আহমদ (রহ.)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন:
“আমাদের কথা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা যাচাই করা হবে। যে কথা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে মিলবে না, তা পরিত্যাগ করো।”

৪১০ হিজরি পর্যন্ত কেও ১ মাজহাবের অন্ধ অনুসারী ছিলোনা এবং এটাই সালাফিদের বৈশিষ্ট যে তারা একটি মাত্র মাজহাবকে অন্ধ অনুসরণ করবেনা। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) চাইতেন যে, তাঁর ফতোয়া শুধুমাত্র অন্ধভাবে(তাকলিদ করে) অনুসরণ না করে বরং দলিল ও প্রমাণ যাচাইয়ের পরেই গ্রহণ করা হোক।

আল-খাতিব আল- বাগদাদি তাঁর “তারিখুল বাগদাদ” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: “কেউ আমাদের কথা গ্রহণ করতে পারে না, যতক্ষণ না সে জানে আমরা এটি কোথা থেকে নিয়েছি।”

সুরা ইউসুফ (১২:৪০):
“বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহর।”

ইসলামী বিধান শুধুমাত্র আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশনার অধীনে এবং তা যাচাই-বাছাইয়ের পরই গ্রহণ করা উচিত, কোনো ব্যক্তিগত অনুমান বা মতামতের ভিত্তিতে নয়। এবং এটাই ইমাম আবু হানিফা সাবধান করে গেছেন। তাকলিদ অর্থাৎ অন্ধ অনুসরণ করা উচিত নয়, বরং ফতোয়ার যথার্থতা যাচাই করা দরকার, যা সঠিক দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। এবং ব্যক্তিগত মতামত বা চিন্তা ইসলামিক বিধান ও ফয়সালার বিরুদ্ধে হতে পারে না, বিশেষত যখন তা স্পষ্টভাবে আল্লাহ বা রাসূল (ﷺ)-এর নির্দেশের বিপরীতে চলে।

সুরা আল-আহযাব (৩৩:৩৬):
“কোনো মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য এটি অনুমোদিত নয় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন, তখন তারা তাদের ব্যক্তিগত মতামত দেবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *